বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা
একশত বিশ বছর পূর্তি ঈশ্বরের এক মহাশীর্বাদ। ইটালী থেকে আগত পিমে মিশনারী ফাদারদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি, যারা আন্ধারকোঠাতে প্রথম পাহাড়িয়া আদিবাসীদের দীক্ষা দিয়ে এখানে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ধর্মপল্লী স্থাপন করেছিলেন। এই দীর্ঘ বছর পরে এসে আমাদের মূল্যায়নের সময় এসেছে। আমরা সামাজিক, মানবিক, আধ্যাত্মিক ও মাণ্ডলিকভাবে কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছি তাও ভাবতে হবে। ২৮ নভেম্বর আন্ধারকোঠা নিত্য সাহায্যকারিণী মা মারীয়া ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠার একশত বিশ বছর পূর্তি খ্রিস্টযাগের উপদেশে বিশপ জের্ভাস রোজারিও এই কথা বলেন।
২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পবিত্র আরাধনা, আলোক শোভাযাত্রা, মারীয়ার ওপর প্রদর্শনী ও আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লী বিষয়ে বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাল পুরোহিত ফাদার প্রেমু রোজারিও অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমরা যিশুর জন্মজয়ন্তী বর্ষে রয়েছি। ‘আশার তীর্থযাত্রী’ হয়ে স্বর্গের দিকে যাত্রা করছি। আর এই জয়ন্তীবর্ষে আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠার একশত বিশ বছর পূর্তির এই দিনে আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। পাহাড়িয়া আদিবাসীরা দীর্ঘ বছর ধরে খ্রিস্টবিশ্বাস আকড়ে ধরে বিশ্বাসের যাত্রা করছে। আগামী ২০২৯ খ্রিস্টাব্দে ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠার একশত পঁচিশ বছরের জুবিলী উদযাপনের প্রস্তুতি যেন আজকের এই উৎসব।
খ্রিস্টযাগের পর স্মৃতিচারণ ও স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাহাড়িয়া আদিবাসী স্পেরাতুস বিশ্বাস বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষগণ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করায় আমরা সত্যিকার ধর্মের সন্ধান পেয়েছি। আজকে শ্রদ্ধাভরে আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করি। এছাড়াও এই সুন্দর আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। তিনি সবাইকে আহ্বান করে বলেন, আমরা যেন আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করি।
বিকালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠার একশত বিশ বছর পূর্তি উদযাপন সমাপ্ত হয়।




