সংবাদদাতা: ডানিয়েল লর্ড রোজারিও
রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে খ্রিস্ট জন্মজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠান। ৬ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ফাদার, সিস্টার এবং ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে খ্রিস্টভক্তগণ।
ডিঙ্গাডুবায় অবস্থিত রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের পুরাতন কাথিড্রাল প্রাঙ্গণ থেকে ব্যানার, ফেস্টুন, বাজনাবাদ্য বাজিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহযোগে নতুন কাথিড্রালে যাওয়া হয়। কাথিড্রালের সামনে খ্রিস্টভক্তগণ বিভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে কীর্তন ও নাচ উপস্থাপন করেন। এরপর কাথিড্রালে স্থাপিত জুবিলী ক্রুশ আশির্বাদ ও উদ্বোধন করা হয়।
জুবিলী সমাপনী খ্রিস্টযাগের উপদেশে বিশপ বলেন, জুবিলীবর্ষের মূলভাব ছিলো ‘আশার তীর্থযাত্রী’। এই জগতে আমাদের অনেক আশা আছে; আর আশাই আমাদের সামনে এগিয়ে চলতে প্রেরণা দেয়, শক্তি জোগায় ও পথ দেখায়। কিন্তু আমরা জানি এই জগতের সকল আশা পূর্ণ হয় না। তবু আমরা আশা করি- আশায় বুক বাঁধি। আশা করি যে, আমরা একদিন এই জগতের সকল অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট, হতাশা-নিরাশা, বাধা-বিপত্তি, ব্যর্থতা-পরাজয়, ব্যথা-বেদনা সবই জয় করতে পারব। তবে আমাদের চূড়ান্ত আশা হচ্ছে- আমরা স্বর্গে যাব।
খ্রিস্টযাগের পর বিশপ মহোদয় আনুষ্ঠানিকভাবে কাথিড্রাল গির্জার দরজা বন্ধ করার মধ্য দিয়ে জুবিলীবর্ষের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ফাদার হেনরী পালমা জুবিলী বর্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, জুবিলী বর্ষ আমাকে ভীষণভাবে আধ্যাত্মিকতায় প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে। আমার ধর্মপল্লীতে আমি খ্রিস্টভক্তদের সাথে জুবিলীর আনন্দ সহভাগিতা করেছি এবং লক্ষ্য করেছি জুবিলীর উন্মাদনা। ‘আশার তীর্থযাত্রী’ এ দুটি শব্দ নিয়ে আমরা সারাবছর ধ্যান করেছি তবে আমাদের তীর্থযাত্রা শেষ নয় বরং আমাদের প্রতিনিয়ত স্বর্গের পথে যাত্রা করতে হয়।
সবিতা মারাণ্ডী বলেন, একজন খ্রিস্টভক্ত হিসেবে জুবিলীবর্ষে আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করেছি এবং আত্মমূল্যায়ন করেছি। জুবিলীবর্ষে চেষ্টা করেছি নিজেকে ধরিত্রী মায়ের সেবায় নিয়োজিত করতে। আমার সুযোগ হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায় তীর্থ করার আর সেখানে লক্ষ্য করেছি ভক্তজনগণের আধ্যাত্মিকতা। সবচেয়ে যে বিষয়টি আমাকে নাড়া দিয়েছে তা হলো যুব আধ্যাত্মিকতা। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তীর্থস্থানে ভক্তি প্রদর্শন সত্যিই অনেক বেশি অভিভূত করেছে।
জুবিলী সমাপনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ফাদার প্রেমু রোজারিও বলেন, আজকে এ অনুষ্ঠান সফল করতে বিভিন্নজন নানাভাবে সহায়তা দিয়েছেন। আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষভাবে বিশপ মহোদয়কে যিনি জুবিলীবর্ষে তাঁর পালকীয় পত্র লিখে আমাদের আলোকিত করেছিলেন এবং বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। আজকের দিনে আমি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
এরপর জুবিলী স্মরণিকা ‘বরেন্দ্রদূতে’র মোড়ক উন্মোচন এবং কাথিড্রাল স্কুলের মাঠে সম্মিলিত নাচ-গান ও কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।




