বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার হাসানবেগপুরে ঘোষণা করা হলো রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের আরেকটি নতুন ধর্মপল্লী। ২৩ জানুয়ারি পবিত্র ক্রুশ নামক ধর্মপল্লীর আশির্বাদ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ ক্যাভিন রাণ্ডাল, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও, বাংলাদেশে হলিক্রস যাজকসংঘের প্রভিন্সিয়াল ফাদার জর্জ কমল রোজারিও, সিএসসি, আমেরিকা থেকে আগত ফাদার টম এ. কার্ড, সিএসসি, মেজর জেনারেল জন গমেজ, বাবু মার্কুজ, অন্যান্য ফাদার, সিস্টার ও খ্রিস্টভক্তগণ।
হাসানবেগপুরে উঁরাও- সাঁন্তালী নৃত্য ও কৃষ্টিতে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর ফিতা কর্তন ও আশির্বাদের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় ফাদার বাড়ি ও নবনির্মিত গির্জাঘর। খ্রিস্টযাগের উপদেশে বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, আমরা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই কারণ তাঁরই অনুগ্রহ ও উপকারী বন্ধুদের সহায়তায় হাসানবেগপুরে নতুন গির্জা ও ফাদার বাড়ি পেয়েছি। আর এখান থেকেই যাজকগণ খ্রিস্টভক্ত তথা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্নভাবে সেবাপ্রদান করবেন। তবে খ্রিস্টভক্তদেরও দায়িত্ব ফাদারের সহায়তা এবং নিজেদের বিশ্বাসের জীবনকে যত্ন করা। খ্রিস্টযাগের শেষে আর্চবিশপ ক্যাভিন রাণ্ডাল বলেন, আজ থেকে হাসানবেগপুরে গির্জাঘর ও ফাদার বাড়ি আশির্বাদ ও উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন একটি ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। গির্জাঘর হচ্ছে ঈশ্বরের গৃহ। আর ঈশ্বরের গৃহে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের ভালবাসা উপলব্ধি করতে পারি।
খ্রিস্টযাগের পর সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফাদার জর্জ কমল রোজারিও, সিএসসি বলেন, বিশপ জের্ভাস রোজারিওকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। কারণ তিনি আমাদের রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। পবিত্র ক্রুশ সংঘের যাজকগণ হাসানবেগপুর ধর্মপল্লীর জনগণের আধ্যাত্মিক যত্নে নিজেদের উজাড় করে দেবেন।
উল্লেখ থাকে যে, নবপ্রতিষ্ঠিত হাসানবেগপুর ধর্মপল্লী এক সময় চাঁদপুকুর ধর্মপল্লীর অধিন্যস্ত একটি উঁরাও অধূষ্যিত গ্রাম ছিলো। ২৫ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও আনুষ্ঠানিকভাবে হাসানবেগপুরকে পবিত্র ক্রুশের কোয়াজি ধর্মপল্লী হিসেবে ঘোষণা দেন। চাঁদপুকুর থেকে আলাদা হয়ে আঠারোটি গ্রামের সমন্বয়ে এই ধর্মপল্লী ঘোষণা করা হয়েছে। এই ধর্মপল্লীতে উঁরাও, সাঁন্তাল ও মাহালী আদিবাসীদের বসবাস।




