বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা
মা মারীয়া যিশুর মা। যিশু ক্রুশে থেকে মা মারীয়াকে আমাদেরও মা করে রেখে গিয়েছেন। মা মারীয়ার মধ্যস্থায় আমরা যখন ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করলে ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা পূরণ করে দেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি বনপাড়া ধর্মপল্লীর প্রতিপালিকা লুর্দের রাণী মা মারীয়ার পর্বীয় খ্রিস্টযাগের উপদেশে বিশপ জের্ভাস রোজারিও এই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, খ্রিস্টভক্তবিশ্বাসী হিসেবে আমাদের প্রধান পরিচয় হচ্ছে আমরা প্রার্থনাশীল মানুষ। তবে পরিবার ও ব্যক্তিজীবন থেকে প্রার্থনা হারিয়ে গেলে আমাদের পরিচয়ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। তাই রবিবারে খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ ও প্রার্থনাপূর্ণ জীবনযাপন প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
পর্বীয় খ্রিস্টযাগে উপস্থিত ছিলেন বনপাড়া ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার দিলীপ এস. কস্তা, বনপাড়া সেন্ট যোসেফ স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার শংকর গমেজ, পালকীয় কেন্দ্রের পরিচালক ফাদার সাগর কোড়াইয়া, পোপ ষষ্ঠ পল সেমিনারীর পরিচালক ফাদার সুরেশ পিউরীফিকেশন, অন্যান্য ফাদার, সিস্টার ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টভক্ত।
পর্ব উপলক্ষে আগের দিন সন্ধ্যায় আলোক শোভাযাত্রা ও নিরাময় অনুষ্ঠান করা হয়। এছাড়াও নয়দিনের নভেনায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টভক্তগণ তাদের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। পর্বীয় খ্রিস্টযাগের শেষে পাল পুরোহিত ফাদার দিলীপ এস. কস্তা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্রান্সের লুর্দ নগরে বার্ণাডেটের নিকট মা মারীয়া দর্শন দিয়ে মন পরিবর্তন ও প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে মা মারীয়া আমাদেরও মন পরিবর্তন ও প্রার্থনার অনুরোধ জানান। লুর্দের রাণী মা মারীয়ার পর্ব পালন করতে পেরে বনপাড়ার খ্রিস্টভক্তগণ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। তবে খ্রিস্টভক্তগণের উপস্থিতি শুধুমাত্র যেন পর্বকেন্দ্রিক না হয়ে সপ্তাহের অন্যান্য দিনও হয়।
বনপাড়া ধর্মপল্লীবাসী সন্ধ্যা পিরিচ বলেন, আজকে লুর্দের রাণী মা মারীয়ার পর্ব পালন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। দিনে দিনে পর্বের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছরই আশেপাশের অন্যান্য ধর্মপল্লীর জনগণও পর্বে যোগদান করছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মা মারীয়ার মধ্যস্থায় ঈশ্বরের নিকট থেকে আমরা আমাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে পারবো।




