সংবাদদাতা: অর্ণেট ব্লেইজ পেরেরা
“যে পরিবার একসঙ্গে প্রার্থনা করে, সে পরিবার একসঙ্গে বাস করে” মূলসূরকে কেন্দ্র করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ফৈলজানা ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো হলিক্রস রোজারি মিনিস্ট্রিজ বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশেষ আধ্যাত্মিক কর্মসূচি। ১৬০ জন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ক্রুশের পথের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় । এরপর ছিলো পবিত্র খ্রিস্টযাগ। হলিক্রস ফ্যামিলি মিনিস্ট্রিজ বাংলাদেশের পরিচালক ফাদার রুবেন ম্যানুয়েল গমেজ, সিএসসি রোজারিমালা প্রার্থনা বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রার্থনার শক্তি এবং রোজারিমালার মাধ্যমে পরিবারকে কীভাবে খ্রিস্টের আরও নিকট আসা যায়, তা তুলে ধরেন। তিনি মা মারিয়ার মধ্যস্থতায় প্রতিদিন রোজারিমালা প্রার্থনার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই প্রার্থনাই পরিবারে শান্তি, সাহস ও পথনির্দেশনা এনে দেয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত সাক্ষ্য অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ করে তোলে। অনেকে মা মারিয়ার মধ্যস্থতায় প্রাপ্ত আশির্বাদ ও জীবনের পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা সহভাগিতা করেন, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে মা মারিয়ার বিস্ময়কর কার্যাবলি ও বিশ্বখ্যাত দর্শনগুলোর কথা তুলে ধরা হয়। এসব দৃশ্য ও বর্ণনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মা মারিয়ার উপস্থিতি ও তাঁর বার্তার তাৎপর্য নতুন করে উপলব্ধি করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয় ‘রোজারি প্রিস্ট’ নামে খ্যাত ফাদার প্যাট্রিক পেটন, সিএসসি-এর জীবন ও মিশন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি “যে পরিবার একসঙ্গে প্রার্থনা করে, সে পরিবার একসঙ্গে বাস করে” বার্তা নতুন প্রজন্মের মাঝেও গভীর প্রভাব ফেলে।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিদিন রোজারিমালা প্রার্থনার গুরুত্ব উপলব্ধি, পারিবারিক প্রার্থনা জীবনকে শক্তিশালী করা, তরুণদের মধ্যে খ্রিস্টিয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সন্তানদের আধ্যাত্মিক গঠনে পিতামাতার ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। অনুষ্ঠানে রোজারিমালাকে কেবল একটি প্রার্থনা হিসেবে নয়, বরং খ্রিস্টের সঙ্গে গভীর ঐক্য ও পরিত্রাণের পথে এক বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।




