সংবাদদাতা: অজয় মুরমু

সুরশুনিপাড়া ধর্মপল্লীতে ‘প্রায়শ্চিত্তকাল: পাপ থেকে মন ফিরানোর সময়’ মূলভাবকে সামনে রেখে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি ও পাপস্বীকার কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে। রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় যুব কমিশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুব সমাজকে আধ্যাত্মিক জীবনে আরও শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। যেখানে সুরশুনিপাড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে মোট ১৩১ জন যুবক যুবতী অংশগ্রহণ করে।

১৯ মার্চ বিকেলে রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ক্রুশ অর্চনার মাধ্যমে শুরু হয় আধ্যাত্মিকতা। যুবক-যুবতীদের জন্য আয়োজিত বিশেষ পাপস্বীকার অনুষ্ঠানে অনেকেই অংশ নিয়ে নিজেদের আত্মশুদ্ধি করেন। রাতের অধিবেশনে যিশু খ্রিস্টের যাতনাভোগের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সবার মনে গভীর ভাবাবেগের সৃষ্টি করে।

পরদিন সকালে প্রভাত প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সুরশুনিপাড়া ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার প্রদীপ যোসেফ কস্তা সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। দিনের প্রথম ভাগে ফাদার সাগর তপ্ন যুবদের মন পরিবর্তনের ওপর আলোচনা করেন। এরপর ভক্তিভরে ‘ক্রুশের পথ’ করা হয়। বেনেডিক্ট মুর্মু যুবদের বাস্তব জীবন ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন নিয়ে একটি অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা করেন।

পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার প্রদীপ কস্তা। খ্রিস্টযাগের উপদেশে ফাদার শ্যামল জেমস গমেজ বর্তমান প্রজন্মের জন্য আদর্শ হিসেবে নতুন সাধু কার্লো আকুতিসের জীবন দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কীভাবে একজন আধুনিক যুবক হয়েও ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ঈশ্বরভক্তি ও সেবার পথে চলা সম্ভব, কার্লো আকুতিস তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি উপস্থিত যুবক-যুবতীদের সেই পবিত্রতা ও ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

আধ্যাত্মিক কর্মসূচির পাশাপাশি ছিল বিনোদন ও মেধা যাচাইয়ের ব্যবস্থা। বাইবেল ভিত্তিক একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে সমগ্র আয়োজনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করা হয়।

আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Please follow and like us: