সংবাদদাতা: লর্ড ডানিয়েল রোজারিও
আমাদের জীবনে অনেক কিছুই চাই কিন্তু সব থেকে যে জিনিসটি বেশি চাই তা হলো সুখ। বর্তমান সময়ে অরাজকতা, অশান্তি ও মনোমালিন্যের পরিবেশ বিরাজমান। এখানে আশা প্রয়োজন, এই আশা কে জাগাবে? আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি আমি কি সেই আশা হতে পারি না? ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বনপাড়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত ৪০তম জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশপ জের্ভাস রোজারিও এই কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, যুবক-যুবতীরা নিজেদের জীবন দিয়ে খ্রিস্টের সাক্ষ্য প্রদান করতে পারে। পরিবার, দেশ, সমাজ ও বিশ্বে আশার চিহ্ন হয়ে উঠতে পারে। তাই আমি তোমাদের আলোর মানুষ হয়ে উঠার জন্য আহ্বান করি।
জাতীয় যুব দিবসের মূলভাব ছিলো “তোমরা আমার সাক্ষী, কারণ তোমরা আমার সাথেই রয়েছ”। যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও, চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, বরিশালের বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও, এপিসকপাল যুব কমিশনের চেয়্যারম্যান বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজসহ ৮টি ধর্মপ্রদেশের ২৭ জন যাজক, ১৬ জন সিস্টার, ২জন ব্রাদার সহ ৪৫০ জন যুবক-যুবতী।
১ ফেব্রুয়ারি সকালে ভোরের মৃদু হাওয়ার সাথে সাথে একে একে সকল ধর্মপ্রদেশের যুবারা বনপাড়া ধর্মপল্লীর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে থাকে। রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের যুবারা সকলকে সাঁন্তালি, উরাঁও, মাহালি, পাহাড়িয়া ও বাঙালি কৃষ্টিতে বরণ করে নেয়। বিকালে মূলসুরের উপর আলোচনা করেন ড. ফাদার শংকর ডমিনিক গমেজ। তিনি বলেন, আমরা তখনই যিশুর সাক্ষী হয়ে উঠতে পারব যখন আমরা মঙ্গসমাচারের আলোকে জীবনযাপন করব। প্রত্যেকজন যুবাকে হয়ে উঠতে হবে মঙ্গলবাণীর জীবন্ত প্রদীপ যেন আমাদের দেখে অন্যরা অনুপ্রাণিত হয় এবং নিজেদের জীবন পরিবর্তন করতে পারে।
২ ফেব্রুয়ারি সকালে ধর্মপ্রদেশীয় নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতির আলোকে আনন্দর্যালি ও হ্যারিটেজ কর্নার উদ্বোধনের মাধ্যমে দিনের যাত্রা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, যুবদিবসের লগো উন্মোচন, কবুতর অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুবদিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি যুবরাই একটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি। তোমাদের ভিতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার সন্ধান করে কাজ করতে হবে।
এপিসকপাল যুব কমিশনের চেয়্যারম্যান বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ বলেন, তোমাদের প্রাণচাঞ্চল্য ভাব এখনো আমাদের সজীব করে তোলে। হস্তার্পণ সংস্কারের মাধ্যমে আমরা যিশুর সাক্ষী, সেনা ও শিষ্য হয়ে উঠি। খ্রিস্টকে আমরা যেভাবে দেখি, যেভাবে অনুভব ও উপলব্ধি করি তা নিয়ে আমরা প্রেরিত হই সাক্ষী দেওয়ার জন্য যেন আমাদের কারণে অনেকে আলোর পথে ফিরে আসতে পারে।
যুবদিবসের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ছিল বিষয়ভিত্তিক বাস্তবধর্মী ক্লাস, গ্রাম পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা সহভাগিতা। বিশেষভাবে ইয়ুথ কাউন্সিলিং: ভালবাসার ভাষা ও যুবাদের আশা, AI vs OI and IQ vs OQ; Youth Super power, The joy of youth: Living, Learning and Leading, Empowering youth: Protector of human Trafficking, যুবজীবনে ধর্মশিক্ষা ও বাইবেলের গুরুত্ব, জীবন ও জীবিকায় সফল উদ্যোক্তা বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ক্লাস প্রদান করেন।
দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রাপ্তি প্রিয়াঙ্কা আইন্দ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, আমরা যেন আধ্যাত্মিক ও নৈতিকভাবে পরিপক্কতা লাভ করি। যিশু আমাদের আহ্বান করেন যেন আমরা একসাথে পথ চলি এবং একটা শান্তি ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
যুবদিবসের সমাপনী খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন এপিসকপাল যুব কমিশনের চেয়্যারম্যান বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ। ২০২৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশে জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের নিকট যুব ক্রুশ হস্তান্তর করা হয়।




