ডানিয়েল লর্ড রোজারিও

নয়ন ও শান্ত দুইজন আপন না তবে অনেক ভালো সর্ম্পকের ভাই। ছোটবেলা থেকেই দুজন দুজনকে অনেক ভালবাসতো এককথায় নিজের ভাইয়ের মধ্যেও এরকম মিল সচরাচর দেখা যায় না। একসাথে স্কুলে যাওয়া, একবেঞ্চে বসে ক্লাস করা, আড্ডা দেওয়া, ঘুরতে যাওয়া এবং নানা ধরণের দুষ্টামি। দুইজন দুই পরিবারের হলেও তাদের মধ্যে অগাধ ভ্রাতৃত্ববোধ ছিল। গ্রামের সবাই বলত এরকম বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সর্ম্পক এখন আর দেখা যায় না। গ্রামের সবাই তাদের অনেক পছন্দ করত কারণ তারা দু’জন সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করত এবং অনেক সাহায্য-সহযোগিতা করত।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এলো তবে তাদের বন্ধুত্বে কিঞ্চিত পরিমাণ পরিবর্তনও হয়নি। দু’জনেই এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং নিয়ে পড়াশোনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নয়নের সাথী নামের একটি মেয়েকে অনেক পছন্দ হলো, নয়ন যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও সাথীর ভালবাসা পেতে চায়। নয়ন শান্তর সাথে সবকিছু সহভাগিতা করে এবং শান্ত তাকে সহায়তার আশ্বাস দেয়। শান্ত অনেক চেষ্টা করে মেয়েটাকে ইমপ্রেস করে এবং নয়নের সাথে প্রেম করার জন্য রাজিও করায়।

শুরু হলো নয়ন আর সাথীর প্রেমের সর্ম্পক, নয়নের মধ্যে কেমন জানি পরিবর্তন লক্ষিত হলো। শান্তর সাথে আর আগের মতো কথা বলে না, আড্ডাও দেয় না তবে তাতে অবশ্য শান্ত মন খারাপ করতো না। সে চিন্তা করত বন্ধু নয়া নয়া প্রেমে পড়েছে তাই মনে এখন লাড্ডু ফুটছে। একদিন হঠাৎ সাথী তার প্রেমিক নয়নকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি আমাকে ভালবাস? নয়ন বললো, অবশ্যই। সাথী বললো তাহলে আজকে থেকে শান্তর সাথে আর কোন প্রকার সম্পর্ক রাখবে না। নয়ন প্রথমে একটু কষ্ট পেলেও সাথীর জুরাজুরিতে রাজি হলো। আসলে শান্ত ছিল ভার্সিটিতে প্রথম সারির ছাত্র তাই সাথী তাকে হিংসা করত। শান্ত একদিন সাথীর সামনেই নয়নকে জড়িয়ে ধরে বললো, বন্ধু আমি ক্লাসে প্রথম হয়েছি।

নয়ন সেদিন তাকে অনেক অপমান করলো এবং তার নতুন শার্টে ময়লা ভরানোর জন্য একটা থাপ্পর দিয়ে বলেছিল , আজ থেকে তোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। শান্ত কষ্টে, অভিমানে সেই স্থান ত্যাগ করলো। তবে অল্প কিছুদিন পরে সাথীও নয়নের সাথে ব্রেকআপ করলো। নয়ন বুঝতে পারলো সে শান্তর প্রতি অন্যায় করেছে তবে আত্মসন্মানের কথা ভেবে নয়ন তার বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করেনি। অনেকে অনেক বোঝানোর পরও কোন কাজ হয়নি। দু’জনই বলে ও আগে আসবে, আমি কেন যাব।

একদিন প্রায়শ্চিত্তকালীন পাপস্বীকারে অনেকের সাথে তারা দু’জনও পাপস্বীকার করতে গেলো। নয়ন পাপস্বীকারের পূর্বে ফাদারের সাথে সব সহভাগিতা করলো এবং পরামর্শ চাইলো। ফাদার তাকে বললো, পাপস্বীকারের আগে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে সর্ম্পক ঠিক করে আসো সেটাই হবে তোমার প্রকৃত পাপস্বীকার। নয়ন ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে লাগলো। ফাদার লক্ষ্য করলেন নয়ন একধাপ যায় দুইধাপ পিছায় এভাবে একপর্যায়ে নয়ন শান্তর কাছে অনুতপ্ত অন্তরে ক্ষমা চাইলো। দু’জন দু’জনকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল এবং এ দৃশ্য দেখে মুহুর্তের মধ্যেই গির্জাঘরে পরিবেশ পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল। ফাদার তখন তাদের সামনে ডেকে বললেন ঈশ্বর অনুতপ্ত হৃদয়কে ভালবাসেন এবং আজকের এই দৃশ্য প্রায়শ্চিত্তকালে আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

প্রতিবছর প্রায়শ্চিত্তকাল আসে মন পরিবর্তন ও জীবন পরিবর্তনের আহ্বান নিয়ে। অনুতাপ, অনুশোচনা, ত্যাগস্বীকার ও তপস্যা সাধনার মধ্য দিয়ে পাপময় জীবনের পরিবর্তন, যিশুর ক্রুশীয় মৃত্যু-যাতনা ধ্যান করে নিজেদের পাপের ভয়াবহতা অনুধ্যান করা এবং যিশুর ক্রুশের যাত্রা সঙ্গী হয়ে কালভেরীর শিখর পর্যন্ত তাকে অনুসরণ, তার সাথে আমাদের পাপময় জীবনটাকে কবর দেওয়া এবং তার সাথে নবজীবনে পুনরুত্থিত হওয়ার লক্ষ্যে এই প্রায়শ্চিত্তকাল, এই ৪০ দিনের দীর্ঘ যাত্রা।

খ্রিস্টমণ্ডলির বর্ষপুঞ্জিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাল হলো প্রায়শ্চিত্তকাল। প্রায়শ্চিত্তকালকে আত্মশুদ্ধি বা মন পরিবর্তনের কাল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কেননা মাতামণ্ডলি চল্লিশদিন ধরে প্রভু যিশুর জীবন ও বাণী ধ্যান, ক্রুশের পথ, উপবাস, প্রার্থনা ও দয়ার কাজের মধ্য দিয়ে পাপময় জীবন পরিবর্তন করতে এবং পাপবিহীন জীবনযাপন ও নতুন মানুষ হয়ে উঠতে সুযোগ প্রদান করে থাকে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রায়শ্চিত্তকাল

৩২৫ খ্রিস্টাব্দে নিসিয়া ধর্মমহাসভায় ৪০ দিন তপস্যাকালের প্রস্তাব করা হলেও ৩৬০ খ্রিস্টাব্দে লাউডিসিয়ে ধর্মসভার পর থেকে মণ্ডলিতে সর্বত্র ৪০ দিন তপস্যাকাল উদযাপিত হয়ে আসছে। ত্রাণকর্তা প্রভু খ্রিস্টের যাতনাভোগ-মৃত্যু-পুনরুত্থানের প্রস্তুতি হিসেবে খ্রিস্টমণ্ডলিতে তৃতীয় শতাব্দী থেকে প্রায়শ্চিত্তকাল উদযাপিত হয়ে আসছে। খ্রিস্টের চল্লিশদিন উপবাসের স্মরণে ও অনুকরণে খ্রিস্টভক্তরা চল্লিশদিন নির্ধারিত করেছিল উপবাস, প্রার্থনা ও প্রায়শ্চিত্তের জন্য। রবিবার দিনগুলোতে উপবাস করা হতো না বলে এবং পুরোপুরি ৪০ দিন উপবাস করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মোট ৪৬ দিন প্রায়শ্চিত্তকাল ধার্য করা হয়েছিল। তাছাড়া রবিবার হল প্রভু যিশুর গৌরবময় পুনরুত্থানের স্মরণ দিবস, তাই এ দিনে উপবাস করা হয় না বিধায় ভস্ম বুধবার থেকে পুণ্য শনিবার পর্যন্ত ৪৬ দিন হলেও ৬ রবিবার (৬ দিন) বাদ দিয়ে ৪০ দিন গণনা করা হয়। কিন্তু পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে তপস্যাকালে উপবাস রাখার উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

তৎকালে উপবাসকালে, এমনকি খ্রিস্টের পুনরুত্থান স্মরণ দিবসেও মাছ, মাংস, ডিম বা আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে এবং দিনে শুধুমাত্র একবার খাবার গ্রহণে অনুপ্রাণিত করা হয়। কিন্তু নবম শতাব্দীতে এ প্রথাটি কিছুটা শিথিল হয়। ১৩ শতাব্দীতে উপবাসের সময় তরল ও হাল্কা খাবার গ্রহণ ও ১৫ শতাব্দীতে দুপুরে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়। আবার ট্রেন্ট মহাসভা উপবাসের চেয়ে অনুতাপ ও দয়ার কাজ, দান ও সৎ কাজ করার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীকালে, পোপ ষষ্ঠ পল ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ভস্মবুধবার ও পুণ্য শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্কদের বাধ্যতামূলক মাংসাহার ত্যাগের বিধান জারি করেন। এছাড়া অন্যান্য শুক্রবারে মাংসাহার ত্যাগের বিধান দেন।

প্রায়শ্চিত্তকাল বা তপস্যাকালের অর্থ

তপস্যাকালের ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Lent’ শব্দটি এসেছে মধ্যযুগের ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Leinte’ অথবা Lente থেকে যার অর্থ হল বসন্ত বা (Season of spring) । তাই বলা যায়, তপস্যাকাল হলো পাপ থেকে মন পরিবর্তন ও আত্মশুদ্ধিও বসন্তকাল। প্রভু যিশুখ্রিস্টের যাতনাভোগ, ক্রুশ-মৃত্যু,পুনরুত্থান স্মরণে ও খ্রিস্টভক্তদের আত্মশুদ্ধি, পাপ থেকে মন পরিবর্তনের লক্ষ্যে খ্রিস্টমণ্ডলির পূজনবর্ষে তপস্যাকালকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। ভস্ম বুধবারের মধ্য দিয়ে আমরা প্রায়শ্চিত্তকালে প্রবেশ করি। প্রায়শ্চিত্তকাল হলো  আত্মশুদ্ধির কাল, তপস্যা বা সাধনার কাল। অন্যকথায় বলা যায় যে তপস্যাকাল হল ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আশির্বাদ লাভের কাল। এই সময় আমরা আমাদের জীবনের কু-প্রবৃত্তি ত্যাগ করি, মন পরিবর্তন করি, দূষিত জীবনের পরিবর্তন ঘটাই এবং জীবনস্বামী প্রভু যিশুর সাথে সংযুক্ত থেকে পথ চলি।

মণ্ডলির ইতিহাসে গোড়ার দিকে উপাসনালয়ে ভস্মের কিছু কিছু ব্যবহার লক্ষণীয়। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় খ্রিস্টিয় সপ্তম শতাব্দীতে সর্বপ্রথম রোমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভম্মবুধবার পালন করা হয়ে থাকে । যিশুর অনুসারীরা তখন নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে ভস্ম বুধবারে তাদের কপালে ভস্ম মেখে প্রায়শ্চিত্তকালের সূচনা করতেন। আমাদের মাতামণ্ডলি কয়েকটি শতাব্দীতে প্রায়শ্চিত্তকালের সূচনা করতেন প্রায়শ্চিত্তকালের প্রথম রবিবার থেকে কিন্তু পরবর্তীতে পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রায়শ্চিত্তকালকে আরও চারদিন বাড়িয়ে আগের বুধবার থেকে প্রায়শ্চিত্তকাল শুরু করা হয়। পরবর্তীতে এই বুধবারেই প্রায়শ্চিত্তের চিহ্নস্বরূপ কপালে ছাই মাখা হয়।

প্রায়শ্চিত্তকাল আহ্বান করে পরমেশ্বরের সন্নিকটে ফিরে যাওয়ার জন্য। প্রায়শ্চিত্তকালের এই সময়টি হলো, পাপের ক্ষমার, প্রতিপক্ষের সাথে পুনর্মিলনের, মনপরিবর্তন ও পাপস্বীকার সংস্কার গ্রহণের সময় এবং সবার সাথে মিলন, আশা, ন্যায্যতা, এবং আমাদের ভাইবোনদের সাথে আনন্দ সহকারে ও শান্তিতে ঈশ্বরের সেবা করতে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার সময়। প্রায়শ্চিত্তকালে আমরা নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসতে চাই। তাই ঈশ্বরের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রায়শ্চিত্তকালে মাতামণ্ডলি আমাদের আহ্বান করে প্রার্থনা, উপবাস ও দয়ার কাজ করতে।

প্রার্থনা

প্রার্থনা হলো একটি সম্পর্ক, যোগাযোগ বা আলাপন। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা পিতা ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করি। আমাদের মনের বাসনা প্রকাশ করি। তবে আমাদের প্রার্থনা কেমন হওয়া উচিত তা যিশু নিজেই আমাদের শিখিয়েছেন। পবিত্র মঙ্গলসমাচারে যিশু আমাদের প্রার্থনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা যেন প্রার্থনার সময় অযথা কিছু না বলি। কারণ আমাদের কি প্রয়োজন তা পরম পিতা জানেন। তাই তিনি নিজে আমাদের প্রভুর প্রার্থনা শিখিয়ে বলেছেন, আমরা যেন ঈশ্বরের গৌরব করি এবং তার ইচ্ছা পূর্ণ হোক এই কামনা করি, আমরা যেন দৈনিক খাবার খেতে পাই, আমরা যেন অপরাধীকে ক্ষমা করি, আমরা যেন প্রলোভনে না পরি, পিতা ঈশ্বর যেন আমাদের সর্বদা সকল অসত্যের হাত থেকে রক্ষা করেন এই কামনা করাই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা।

উপবাস

যিশুর শিক্ষা ও নির্দেশনা হচ্ছে আমরা যখন উপবাস করি তখন আমাদের মধ্যে যেন কোন ভণ্ডামি না থাকে। তাই খ্রিস্টমণ্ডলি আমাদের শিক্ষা দেয় উপবাস শুধুমাত্র খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকা নয় বরং মনের বা হৃদয়ের পরিবর্তন হচ্ছে বড় উপবাস। কারণ আমাদেও মন ও হদয় থেকেই বেরিয়ে আসে সকল প্রকার রাগ,অহংকার,হিংসা অর্থ্যাৎ সকল মন্দতা। আমরা যদি নিজের মন্দতা জয় করতে পারি সেটাই একজন খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসেবে বড় উপবাস। তাই প্রবক্তা যোয়েল এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, “তোমাদের পোশাক নয় বরং তোমাদের হৃদয়টাই ছিড়ে ফেল।”

দানকর্ম

একবার দান করে দেখুন অন্তরে শান্তি পাবেন। যা শত টাকা দিয়েও কিনতে পারবেন না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সাধ্যমত দান করা, পরের কল্যাণ সাধন করা। তবে এই দান কেমন করে করতে হবে তা পবিত্র মঙ্গলসমাচার আমাদের শিক্ষা দেয়। “যখন তুমি কাউকে ভিক্ষা দাও, দেখ, তোমার ডান হাত যে কী করছে, তোমার বাঁ হাত যেন তা জানতে না পারে। তোমার এই ভিক্ষা দান বরং গোপনই থাকুক” (মথি ৬:১)। যিশুখ্রিস্টের একজন সৈনিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের আহ্বান হলো আমরা যেন অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেই।

প্রায়শ্চিত্তকালে আমাদের জন্য অনুসরণীয় কিছু পদক্ষেপ: প্রায়শ্চিত্তকালে আমরা আমাদের মানবীয় দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আমাদের ব্যক্তিজীবনে যেসকল কাজ করতে পারি তা হলো

* আত্মমূল্যায়নের দ্বারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের পাপময়তা, মন্দতা ও বিবেক বিরোধী কাজকর্ম থেকে নিজেদের বিরত রাখা।

* খ্রিস্টিয় মূল্যবোধ অনুসারে জীবন-যাপন ও অন্তরের পবিত্রতা লাভের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

* অন্যের মঙ্গল কামনা ও ক্ষমার মনোভাব অর্জনের চেষ্টা করা।

* প্রার্থনা, ভিক্ষাদান ও উপবাসের মধ্য দিয়ে যিশুর কষ্ট ও যাতনাভোগের সহভাগী হতে পারি এবং যিশুর ন্যায় পরস্পরের কষ্টের সাথেও একাত্ম হয়ে কষ্টভোগী সেবকের কষ্টের অভিজ্ঞতায় খাঁটি খ্রিস্টবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারি।

* পরিবারে, সমাজে ও অন্যান্য ব্যক্তিদেও সাথে পারস্পারিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলি এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মধ্য দিয়ে মিলন সমাজ গড়ে তুলতে পারি।

* অন্যের সমালোচনা ও নিন্দা থেকে নিজেকে বিরত রাখা ও সচেতন থাকা

* পাপী ও অবিশ্বাসী মানুষের মন পরিবর্তনের জন্য প্রার্থনা করা।

* পরিবারে পরস্পরের সাথে মিলন ও সন্ধি স্থাপন।

* রোগী, অসুস্থ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা যত্ন ও সাহায্য-সহযোগিতা করা।

* প্রায়শ্চিত্তকালীন বিভিন্ন ধ্যান-প্রার্থনায় স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ।

* কমপক্ষে যেকোন একটি বদঅভ্যাস ত্যাগ করা।

* নিজের অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে অভাবী ও দরিদ্র মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো।

প্রার্থনা, উপবাস ও দয়ার কাজে নিজেকে বেশি করে নিবিষ্ট করতে পারলেই আমরা আমাদের মধ্যকার হিংসা-দ্বেষ, মনোমালিন্য, বিবাদ-বিশৃঙ্খলা, অনৈতিক জীবন-যাপন, ভোগবিলাসিতা, পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা, খ্রিস্টিয় জীবনে উদাসীনতাসহ আরো অনেক মন্দতা পরিহার করে পারস্পারিক সম্মান ও ভালবাসায় সুন্দর খ্রিস্টিয় জীবন গড়ে তুলতে পারব। তপস্যাকালে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাই আমাদের তপস্যা হয়ে উঠুক।

 

 

 

 

 

Please follow and like us: