নিজস্ব সংবাদদাতা

জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের বেণীদুয়ার ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশপ পল গমেজের বিশপীয় অভিষেক অনুষ্ঠান। ৫ জুন অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ ক্যাভিন রাণ্ডাল, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও, বাংলাদেশের অন্যান্য ধর্মপ্রদেশের বিশপগণ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ্, ফাদার, সিস্টার, ব্রাদার ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিস্টভক্ত।

৪ জুন বিকালে বিশপ পল গমেজের মঙ্গলকামনায় অভর্থনা, পবিত্র আরাধনা ও মঙ্গলানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশপ, ফাদার, সিস্টার এবং বিশপ পল গমেজের আত্মীয়-স্বজনগণ বিশপের মঙ্গলকামনায় প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। বেণীদুয়ার ধর্মপল্লীতে বিশপদের আগমনের সাথে সাথে সাঁন্তালী, মাহালী, ওঁরাও ও মুণ্ডারী কৃষ্টিতে নেচে ও পা ধুইয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

৫ জুন পবিত্র খ্রিস্টযাগে বিশপীয় অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই রাজশাহী ও জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশ থেকে ফাদার, সিস্টার ও জনগণ আসতে শুরু করেন। বেণীদুয়ার প্রাঙ্গণ ধর্মীয় সঙ্গীতের মূর্ছনায় মেতে উঠে। খ্রিস্টযাগের উপদেশে বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও বলেন, ঈশ্বর মানুষকে ভালোবাসেন ও যত্ন করেন তা আজকে এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। পুণ্যপিতা চতুর্দশ লিওকে ধন্যবাদ জানাই যিনি নতুন একটি ধর্মপ্রদেশ ও নতুন ধর্মপাল পল গমেজকে দান করেছেন। বিশপীয় দায়িত্ব একাকী লাভ করা যায় না, বরং ঈশ্বর ভালোবেসে এই পালকীয় দায়িত্ব প্রদান করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভাটিকানের রাষ্ট্রদূত ক্যাভিন এস. রাণ্ডাল নবাভিষিক্ত বিশপ পল গমেজকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিশপ পল  বাংলাদেশ মণ্ডলীর জন্য আশির্বাদস্বরূপ। তিনি জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের ভক্তবিশ্বাসীদের ঐশরাজ্যের দিকে পরিচালিত করবেন। এছাড়াও সকল ধর্মের মানুষের সাথে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে সিনোডালিটি প্রতিষ্ঠা করবেন বলে বিশ্বাস করি।

রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, বিশপ পল গমেজ একজন যোগ্য যাজক ছিলেন। আর ঈশ্বর তাঁর এই যোগ্য যাজককে বিশপ হওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। আজকে জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ মণ্ডলীও অত্যন্ত আনন্দিত। বিশপ পল গমেজের জন্য আমাদের প্রার্থনা খুবই দরকার। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তিনি জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশ তথা জনগণকে ঈশ্বরের পথে সুন্দরভাবে পরিচালিত করবেন।

পবিত্র খ্রিস্টযাগের পর ছিলো নবাভিষিক্ত বিশপ পল গমেজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। নৃত্য ও গানে বিশপকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এছাড়াও ছিলো বিশপীয় অভিষেক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন। বিশপ পল গমেজ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি আজ ঈশ্বরকে স্মরণ করি ও ধন্যবাদ জানাই। আমি অযোগ্য থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বর তাঁর কাজের জন্য আমাকে বেছে নিয়েছেন। আমার বিশপীয় জীবনে আপনাদের সমর্থন ও প্রার্থনা অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনাদের প্রার্থনার গুণে ও সহযোগীতায় জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে।

বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতির সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও ছিলো সাঁন্তালী কনসার্ট।

Please follow and like us: