সংবাদদাতা: ভিনসেন্ট চঁড়ে
‘ধর্মপল্লীভিত্তিক সমবায় ও ঋণদান সমিতিগুলোর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত: নবায়ন ও সবুজায়ন প্রক্রিয়া’ মূলসুরকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় সমন্বিত মানব উন্নয়ন বিস্তার কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো সমবায় ও ঋণদান সমিতির উন্নয়ন বিষয়ক শিক্ষা সেমিনার। ২৫ সেপ্টেম্বর কারিতাস রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মার্ডী, ফাদার সুশান্ত ডি’কস্তা, ড. আরোক টপ্য, দোলন গমেজ ও ডমিনিক রঞ্জন গমেজ। রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ধর্মপল্লীগুলোর সমবায় ও ঋণদান সমিতি থেকে চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি, ম্যানেজার ও নারী প্রতিনিধিসহ ৬৫জন অংশগ্রহণ করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সমন্বিত মানব উন্নয়ন বিস্তার কমিশনের আহ্বায়ক ফাদার বিশ্বনাথ মারাণ্ডী বলেন, ধর্মপল্লীর সমিতিগুলো যে উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করা হয়েছিল সে লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে কিনা তা ফিরে দেখা দরকার। সমিতিগুলো সদস্যদের আর্থিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, ঋণদান সমিতিগুলো মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সমিতি শুরু হয়েছে সেটা পুরণ হচ্ছে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার। সমিতির মূলধন বাড়ছে কিন্তু অন্যদিকে অনেকে ঋণ গ্রহণ করে দেউলিয়া হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, সমিতি যেন আমাদের সমাজে বিভক্তি বা অশান্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। সমিতির মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন সচেতনতা শিক্ষা সেমিনারের মাধ্যমে শিশু ও যুবদের গঠান দান করা যেতে পারে।
এরপর খ্রিস্টান সমবায় ও ঋণদান সমিতির উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও বর্তমান অবস্থা বিষয়ের উপর আলোচনা করেন ফাদার সুশান্ত ডি’কস্তা। তিনি বলেন, ঋণদান সমিতি বর্তমানে আর্থিক দিক দিয়ে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে; তবে সদস্যদের কতটা উন্নতি হয়েছে তা ভেবে দেখা দরকার। এছাড়াও সমিতিতে নির্বাচন নিয়ে সদস্যদের মধ্যে দলাদলি ও বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে; যার প্রভাব ধর্মপল্লী পর্যায়ে পড়ছে এবং সমাজে একটি অশান্তি দেখা দিচ্ছে। তিনি ক্রেডিট ইউনিয়নের সমিতির মাধ্যমে খ্রিস্টভক্তদের মাঝে ঐক্য, সম্প্রীতি, একতা, সহমর্মিতা, সহভাগিতা, খ্রিস্টিয় মূল্যবোধ ও শান্তিপূর্ণ মিলন সমাজ স্থাপন করার বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করেন।
এরপর চারটি দলে বিভক্ত হয়ে তিনটি প্রশ্নের আলোকে দলীয় আলোচনা করা হয়। দলীয় আলোচনায় ঋণদান সমিতি সমাজে ও ধর্মপল্লীগুলোতে কী ধরনের অবদান বা সহায়তা করতে পারে তা উঠে আসে। “লাউদাতো সি: সকল সৃষ্টির যত্নের সংস্কৃতি” বিষয়ে আলোচনা করেন দোলন গমেজ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, বাংলাদেশ। সমিতি কীভাবে পোপ ফ্রান্সিসের `Laudato Si’ প্রৈরিতিকপত্রের শিক্ষার মাধ্যমে পরিবার, ধর্মপল্লী ও বিদ্যালয়গুলোতে সবুজায়ন করতে পারে তা উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন। ডমিনিক রঞ্জন গমেজ, সম্পাদক, The Central Association of Christian Co-operatives (CACCO) Limited, ঋণদান আন্দোলনে পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন বিষয়ের উপর সহভাগিতায় বলেন, ঋণদান সমিতি খ্রিস্টিয় সমাজকে একত্রিত করতে পারে। সমিতির মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি সাধিত হচ্ছে, তবে আরও বেশী হলে আমরা ভালো অবস্থানে থাকব।
ফাদার লিটন হিউবার্ট গমেজ, সিএসসি অনলাইনে যুক্ত হয়ে ‘খ্রিস্টিয় সমবায় ও ঋণদান আন্দোলনের নতুন ও টেকসই ধারণা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, খ্রিস্টান সমবায় ও ঋণদান সমিতি আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে যদি আমরা এ সমিতিগুলোকে ঐ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি।




