বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা

বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজক ভ্রাতৃসংঘের বার্ষিক সভা ও রুবি জুবিলী যথাযথ মর্যাদা, আনন্দ ও ভ্রাতৃপ্রেমের পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের বিশপ ও ধর্মপ্রদেশীয় যাজকগণ এতে অংশগ্রহণ করেন। ৫ থেকে ৮ অক্টোবর রমনা আর্চবিশপ হাউজ প্রাঙ্গণে সভা ও তেজগাঁও গির্জায় জুবিলী উদযাপন অনুষ্ঠানে যাজকদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, মিলন, সংহতি ও সেবার চেতনা আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যাজকীয় সেবায় নিয়োজিত যাজকদের অবদান ও ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁদের সেবাজীবনের জন্য বিশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

বার্ষিক সাধারণ সভায় বিভিন্ন পর্বে আলোচনা,  স্মৃতিচারণ, নবাভিষিক্ত যাজকদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বর্তমান সময়ে যাজকীয় জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং খ্রিস্টের আদর্শে নিজেদের আরও নিবেদিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিডিপিএফ এর প্রেসিডেন্ট ফাদার মিন্টু লরেন্স পালমা বলেন, ৪০ বছরের যাজকীয় জীবন শুধু সময়ের হিসাব নয়; এটি ঈশ্বরের আহ্বানে বিশ্বস্ততা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সেবার এক দীর্ঘ পথচলার সাক্ষ্য। তাই এই রুবি জুবিলী নতুন উদ্যমে ঈশ্বর ও মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

বার্ষিক সাধারণ সভা ও জুবিলীর মূলভাব ‘রুবি জুবিলী: ভ্রাতৃপ্রেমের উৎসব: মিলন-একতা এবং যাজকীয় প্রেরণ সেবাকর্মে বৃদ্ধিলাভ’ এর আলোকে বিশপ জের্ভাস রোজারিও তাঁর আলোচনায় বলেন, আমরা যেন এমন একটি যাজকীয় পরিবার গড়ে তুলতে পারি, যেখানে কেউ নিজেকে একা মনে করবে না; যেখানে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হবে, দুঃখে সান্ত্বনা দেওয়া হবে, ভুল হলে ক্ষমা করা হবে এবং সেবার পথে সবাই একে অপরের হাত শক্ত করে ধরবে।

আসুন, আমরা হৃদয় দিয়ে বলি—আমরা একসঙ্গে চলব, একসঙ্গে সেবা করব এবং একে অপরকে ভাই হিসেবে ভালোবাসব। আমাদের এই মিলন যেন কেবল একটি দিনের উৎসব না হয়ে আমাদের দৈনন্দিন যাজকীয় জীবনের সংস্কৃতি হয়ে ওঠে। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রেম বৃদ্ধি পাক, ঐক্য আরও গভীর হোক এবং আমাদের জীবন ও সেবার মাধ্যমে খ্রিস্টের ভালোবাসা মানুষের কাছে প্রকাশিত হোক।

বার্ষিক সভার শেষ দিনে যাজকীয় জীবনের রজতজয়ন্তী ও রুবি জুবিলী উদযাপনকারী যাজকদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। ৮ অক্টোবর জপমলা রাণীর গির্জা তেজগাঁওএ বিডিপিএফ এর রুবি জুবিলী উদযাপিত হয়। খ্রিস্টযাগে মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভাটিকান রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ ক্যাভিন এস. রাণ্ডালসহ অন্যান্য ধর্মপ্রদেশের বিশপগণ উপস্থিত ছিলেন। খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও এবং উপদেশ প্রদান করেন বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও। উপদেশে বিশপ বলেন, একতা মানে সবাইকে একইভাবে চিন্তা করতে হবে, এমন নয়। একতা হলো ভিন্নতার মধ্যেও খ্রিস্টকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে পথ চলা। একজন যাজকের সাফল্যে অন্য যাজক আনন্দিত হবেন, একজনের দুঃখে অন্যজন পাশে দাঁড়াবেন এবং একজন দুর্বল হয়ে পড়লে অন্যজন তাঁকে শক্তি জোগাবেন—এটাই প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব। আমাদের মনে রাখতে হবে, যাজকীয় ভ্রাতৃত্ব শুধু সভা, সম্মেলন কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, পারস্পরিক সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেবাকর্মে প্রতিফলিত হতে হবে।

খ্রিস্টযাগের পর তেজগাঁও কমিউনিটি চার্চ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় বক্তব্য, আলোচনা ও বিডিপিএফ এ বিভিন্ন সময় অবদান প্রদানকারী যাজকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এই রুবি জুবিলীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজকদের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রেম, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

Please follow and like us: