“তোমরা এর চেয়েও মহান বিষয় দেখতে পাবে…” (যোহন :৫০)

​খ্রিস্টে আমাদের প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং এশিয়ার সকলইচ্ছার মানুষেরা,

প্রভু যিশুর কাছ থেকে আপনাদের প্রতি অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষিত হোক।

​২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ থেকে ২৬ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সমবেত হয়ে, এশিয়ার বিশপগণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধি, অংশীদার এবং বন্ধুদের সাথে নিয়ে ঐক্যের জন্য এবং এশিয়ান বিশপস কনফারেন্সের ফেডারেশনের এই দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ সভায় একত্রে পথ চলার সুযোগ পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

​নাথানিয়েলের প্রতি প্রভুর সেই প্রতিজ্ঞা এই দিনগুলোতে আমাদের সাথে ছিল: “তোমরা এর চেয়েও মহান বিষয় দেখতে পাবে।” নাথানিয়েলের মতো, আমরা আমাদের নিজস্ব প্রশ্ন, উদ্বেগ এবং সীমাবদ্ধতা, সেইসাথে আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষাগুলো সাথে নিয়ে এসেছিলাম। তাঁর মতোই, আমরা সেই প্রভুর মুখোমুখি হয়েছি যিনি আমাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং যিনি নম্রভাবে আমাদের ভয়, পূর্বসংস্কার এবং অবিশ্বাসকে অতিক্রম করে ঈশ্বরের রাজ্যের বৃহত্তর দিগন্তের দিকে দৃষ্টি তুলতে আহ্বান জানান।

​প্রার্থনা, শ্রবণ, নীরবতা এবং আত্মায় আলোচনার এই দিনগুলোতে, আমরা নতুন করে অনুভব করেছি যে সিনোডালিটি কেবল একসাথে কাজ করার একটি পদ্ধতি নয়; এটি সর্বোপরি রূপান্তরের একটি পথ যা প্রেরণের দিকে পরিচালিত হয়। এটি আমাদের কাঠামোকে রূপান্তর করার আগে, আমাদের হৃদয়কে রূপান্তর করে। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়ন করার আগে, আমাদের সম্পর্কগুলোকে নবায়ন করে।

​আমরা যখন একসাথে বিচার-বিবেচনা করেছি, তখন একটি বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছি যে, বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এশিয়ায় মণ্ডলী ক্রমাগত সিনোডাল রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সেতু এবং সেতু নির্মাতা হওয়ার জন্য আহ্বানপ্রাপ্ত, যা আমাদের সংস্কৃতি ও মানুষের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করে।

​আমরা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হই- মেরুকরণ, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের পতন, ক্ষমতার সংস্কৃতি, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অভিবাসন, পরিবেশগত অবক্ষয়, সংকুচিত গণতান্ত্রিক স্থান এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য—সেগুলোকে কেবল অতিক্রম করার বাধা হিসেবে দেখা হয় না। বরং, সেগুলোকে পুনর্নবীকরণ করা প্রেরণ সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা মণ্ডলীকে শিক্ষা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, আতিথেয়তা, আমাদের অভিন্ন গৃহের যত্ন এবং মানব মর্যাদা ও সংহতির প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আরও প্রামাণিক উপায়ে সুসমাচার মূর্ত করতে আমন্ত্রণ জানায়।

​মণ্ডলীর অভ্যন্তরেও, আমরা যাজকতন্ত্রবাদ চ্যালেঞ্জটিকে স্বীকার করি, যা বাপ্তিস্ম গ্রহণকারী সকলের মধ্যে ঐক্য, অংশগ্রহণ এবং সহ-দায়িত্বকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এটি আমাদের ক্রমাগত পালকীয় এবং সিনোডাল রূপান্তরের আহ্বান জানায়, যা শোনার সংস্কৃতি, যৌথ বিচার-বিবেচনা এবং সেবামূলক নেতৃত্বকে উৎসাহিত করে।

​আমরা এই সভা থেকে এই নবায়ন করে বিদায় নিচ্ছি যে, খ্রিস্ট নিজেই স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝে, ঈশ্বর ও মানবজাতির মাঝে, মানুষের মাঝে এবং মানবতা ও আমাদের অভিন্ন গৃহের মাঝে জীবন্ত সেতু। তাঁকে অনুসরণ করা মানে আমাদের নিজস্ব সময়ে এবং স্থানে তাঁর নামে সেতু এবং সেতু নির্মাতা হওয়া।

​প্রাচীন সভ্যতায় সমৃদ্ধ, প্রাণবন্ত প্রধান ধর্মসমূহ এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর মহাদেশ এশিয়ায়, আমাদের সেতু এবং সেতু নির্মাতা হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে: যেখানে অন্যরা সন্দেহের প্রাচীর তৈরি করে সেখানে বিশ্বাস ও সংলাপে সেতু; যেখানে সহিংসতা ও সংঘাত সম্প্রদায়গুলোকে বিভক্ত করে সেখানে শান্তির সেতু; যেখানে দরিদ্র, অসহায় এবং বঞ্চিত মানুষেরা মর্যাদার জন্য আকুল হয় সেখানে করুণার সেতু; এবং বৈশ্বিক বিচ্ছিন্নতা এবং আমাদের অভিন্ন গৃহের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিবেশগত সংকটের মধ্যে দ্রুত সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাঝে অর্থের সন্ধানকারী তরুণদের জন্য আশার সেতু।

​ইন্দোনেশিয়ায় আমাদের যাত্রা আহ্বানের একটি শক্তিশালী প্রতীক প্রদান করেছে। যখন আমরা জাকার্তার আওয়ার লেডি অব দ্য অ্যাসাম্পশন কাথিড্রাল এবং ইস্তিকলাল মসজিদকে সংযোগকারী বন্ধুত্বের সুরঙ্গ ধরে হেঁটেছি, তখন আমাদের আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আমাদের বিশ্বাস আমাদের দেয়াল নয়, সেতু তৈরি করতে আহ্বান করে।

​এই সভায় পোপ চতুর্দশ লিও আমাদের যেমন বলেছেন, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে বৈচিত্র্যময় সমাজে সেতু-নির্মাতা হিসেবে গির্জা তার প্রেরণকাজ পূরণ করার জন্য স্থানীয় গির্জাগুলোর মধ্যে দৃঢ় ঐক্য অপরিহার্য।

​আমরা এখন একটি প্রেরণধর্মী সিনোডাল মণ্ডলী হওয়ার অনুপ্রেরণা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি যা গভীর মনোযোগ সহকারে শোনে, দরজা খুলে দেয়, সীমানা অতিক্রম করে এবং সমস্ত মানুষকে নম্রতা ও আশার সাথে সঙ্গ দেয়।

​আমরা আমাদের প্রতিবেশী-ধর্ম এবং সংস্কৃতির সাথে একটি প্রেরণধর্মী সিনোডাল মণ্ডলী হিসেবে বিশ্বজনীন উপায়ে একসাথে চলার প্রতিশ্রুতি নবায়ন করছি, সত্য, ন্যায়বিচার, শান্তি এবং আমাদের অভিন্ন গৃহের যত্ন চাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সহযাত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।

​আমরা এশিয়ার জনগণ ও সংস্কৃতির প্রজ্ঞা শোনার জন্য, দরিদ্র ও অসহায়দের সঙ্গী হিসেবে পথ চলার জন্য এবং পরিবেশগত রূপান্তরের জরুরি আহ্বানকে গ্রহণ করার জন্য নিজেদের পুনরায় উৎসর্গ করছি যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্রষ্টার মঙ্গলকে প্রতিফলিত করে এমন একটি পৃথিবী উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে পারে।

​মা মারীয়া এশিয়া মহাদেশের মাতা এবং মণ্ডলীর জননী এই তীর্থযাত্রায় আমাদের সঙ্গী হোন। পবিত্র আত্মা আমাদের ঐক্য, অংশগ্রহণ এবং প্রেরণে নেতৃত্ব দিন। এবং জীবন্ত সেতু খ্রিস্ট, আমাদের সংযোগ এবং পুনর্মিলনের মধ্যস্থতাকারী করুন, যাতে সকল মানুষ তাঁর মধ্যে জীবনের পূর্ণতা আবিষ্কার করতে পারে।

​আসুন- মহান বিষয়গুলো দেখার নিশ্চিত আশা নিয়ে আমরা একসাথে পথ চলি।

এফএবিসি’র দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ সভার সদস্যদের পক্ষে-

​ কার্ডিনাল ফিলিপ নেরি ফেরাঁও

গোয়া এবং দামানের আর্চবিশপ

এফএবিসি’র সভাপতি

 

Please follow and like us: