সংবাদদাতা: ফাদার অনিল ইগ্নেসিউস মারাণ্ডী
মথুরাপুর ধর্মপল্লীর প্রভাত তারা সংঘের আয়োজনে ও ধর্মপল্লীর সহযোগিতায় কুমারী মারীয়া ও রোজারীমালার ইতিহাস বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত, ফাদার অনিল মারাণ্ডী, ১ জন সিস্টার, বিভিন্ন গ্রামের প্রভাত তারা সংঘের ৬০ জন সদস্যা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের মূলভাব ছিল, “কুমারী মারীয়া ও রোজারীমালার ইতিহাস”। ১১ সেপ্টেম্বর খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে সেমিনার আরম্ভ হয়। পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার শৈবাল ফ্রান্সিস রোজারিও। পবিত্র খ্রিস্টযাগের উপদেশে ফাদার বলেন, “মিশনারী রোজারীমালা হলো কাথলিক মণ্ডলীর একটি বিশেষ প্রার্থনা পদ্ধতি। আর এই জপমালা ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্চবিশপ ফুলটন জে. সিং প্রর্বতন করেন। এই জপমালার মূল উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর পাঁচটি মহাদেশের জনগণ, খ্রিস্টিয় প্রচারক বা মিশনারী এবং সেখানে বসবাসরত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রার্থনা করা।
ফাদার অনিল মারাণ্ডী সেমিনারের মূলভাবের উপর সহভাগিতা করে বলেন, অভিজ্ঞতায় ও বাস্তবতায় দেখা যায় যে, পিতামাতাগণ তাদের সন্তানদের ‘ক্রুশের চিহ্ন’ শিখানোর পর যে প্রার্থনাটি শেখান তা হলো ‘প্রণাম মারীয়া’। আর কাথলিক খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসেবে আমরা জপমালা প্রার্থনার মাধ্যমে ভক্তি, ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়া, নিবেদন- আবেদন, শ্রদ্ধা ইত্যাদি আধ্যাত্মিক পুষ্পগুচ্ছ মায়ের মধ্য দিয়ে সকল উপহার ঈশ্বরকে দিয়ে থাকি। ভক্তির অর্ঘ্যরে এই নিবেদনের মধ্য দিয়েই মা মারীয়াকে আমাদের পরিবারের রাণী, খ্রিস্টমণ্ডলীর মাতা এবং সকলের মা হিসেবে গ্রহণ ও বরণ করেছি।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বন্যা বিশ্বাস বলেন, আমি একজন প্রভাত তারা সংঘের সদস্যা। কুমারী মারীয়া ও রোজারীমালার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পেরে অনেক খুশি হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি মা মারীয়ার মধ্যস্থতায় ঈশ্বর বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেন। আমাদের বাড়ীতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রোজারীমালা প্রার্থনা হয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবেও মারীয়ার মধ্যস্থতায় অনেক কিছু পেয়েছি। তাই আমি মা মারীয়া ও ঈশ্বরকে সব সময় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং নিয়মিত খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ করি।
পরিশেষে অংশগ্রহণকারী সকলকেই মা মারীয়ার ছবি প্রদান করা হয়, সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান এবং দুপুরের আহারের মধ্য দিয়ে সেমিনার সমাপ্ত হয়।




