সংবাদদাতা: অ্যান্থনি সজীব কুলেন্তুনু (ক্যাম্পাস প্রতিনিধি)

সেন্ট যোসেফস্‌ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ২০২৬-২৭ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ২০২৫-২৬ সেশনে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সুযোগপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।

২৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট যোসেফস্‌ স্কুলের এস.এস.সি ১৯৯৪ ব্যাচের কৃতি শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুগ্ম সচীব, মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জনাব মোতাকাব্বীর আহমেদ। সেই সাথে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনপাড়া ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত এবং গভর্ণিং বডির সম্মানিত সভাপতি ফাদার দীলিপ এস. কস্তা, কলেজ শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব গৌর কুমার ঘোষ, সহকারি অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা), মাধ্যমিক শাখার ইনচার্জ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক বেনেডিক্ট গমেজ, প্রাথমিক শাখার ইনচার্জ সিস্টার জয়া এসএমআরএসহ অন্যান্য নিমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের মাননীয় অধ্যক্ষ ড.ফাদার শংকর ডমিনিক গমেজ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হতে পাঠ, জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অতিথিবৃন্দের বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের প্রথমাংশের শেষে নাটোর জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষকের মর্যাদা অর্জন করায় অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. ফাদার শংকর ডমিনিক গমেজকে সেন্ট যোসেফস্‌ স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্ণিং বডির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদাণ করা হয়। এরপর প্রধান অতিথির আগমনের স্মৃতি চিহ্নস্বরূপ সেন্ট যোসেফস্ প্রাথমিক শাখার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন করেন।

অনুষ্ঠানের গর্ভাঙ্কে চারশতাধিক নবীন শিক্ষার্থীদের লাল গোলাপের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হয়। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংকৃতিক অনুষ্ঠানে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মাতিয়ে রাখেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো সেন্ট যোসেফস ডিবেটিং ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত রম্য বিতর্ক। এরপর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় ।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলে, সেন্ট যোসেফস্‌ কলেজে পড়ালেখা করবো এটা আমার অন্যতম একটা স্বপ্ন ছিলো। আমি আমার এলাকার বড় ভাই যারা আগে সেন্ট যোসেফস্‌ কলেজ থেকে লেখাপড়া করে গেছে তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হতাম। সৃষ্টিকর্তা আমার সেই ইচ্ছাকে পূরণ করেছেন। আর এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের এভাবে বরণ করে নেয়া আমি আজীবন মনে রাখবো। সবকিছুর জন্য সেন্ট যোসেফস্‌ কলেজ প্রশাসনকে ধন্যবাদ।

অভিভাবকদের একজন বলেন, সেন্ট যোসেফস্‌ শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষা অর্থাৎ শৃঙ্খলার চর্চা করতে শিক্ষা দেয়। ওরা না বুঝলেও আমরা বুঝি এটা একটা সুশৃঙ্খল মানুষ গড়তে কতটা জরুরি। সেন্ট যোসেফস্‌ এভাবেই আমাদের সন্তানদের যত্ন নিয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে সেই বিশ্বাস থেকেই আমি আমার সন্তানকে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছি।

 

 

Please follow and like us: