সংবাদদাতা: মাইকেল টুডু
“মানবপাচার বন্ধ হোক, সচেতন হোন, প্রতিবাদ করুন, মানুষের স্বপ্ন বাঁচুক-মানবতা বাঁচুক, মানবপাচার নয়-মানবিকতার পক্ষে মানবিক সমাজ গড়ুন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তালিথা কুম বাংলাদেশ ও রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের আয়োজনে ভবানীপুর ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হল মানবপাচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার। ৯ অক্টোবর এতে অংশগ্রহণ করেন ধর্মপল্লীর ফাদার-সিস্টার এবং ৭০ জন ষষ্ঠ থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থী।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হয় পবিত্র খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে। খ্রিস্টযাগে পৌরোহিত্য করেন সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার নিউটন ত্রিপুরা, এসজে। খ্রিস্টযাগে ফাদার বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানুষ উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায়। তাদের কাছে ইউরোপ হচ্ছে স্বর্গ। সবকিছু বিক্রি করে মানুষ যখন সেখানে পৌঁছায় এবং দেখে সেখানকার বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা আমাদের অবশ্যই হানি ট্র্যাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সচেতনতাই পারে মানবপাচার রোধ করতে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এত নিরাপত্তা বেষ্টনী উপেক্ষা করে কীভাবে মানবপাচার করা হয় সে সম্পর্কে ফাদার তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা সহভাগিতা করেন।
তালিথা কুম রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের কো অর্ডিনেটর সিস্টার হাসি গমেজ, সিআইসি শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান এবং তালিথা কুম বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। বাংলাদেশে মানবপাচারের ভয়বহতা নিয়ে তথ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং সেই ভিডিও এর আলোকে কুইজ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। তারপর অংশগ্রহণকারীদের ৪টি দলে ভাগ করে খেলাধূলার আয়োজন ছিলো।
দ্বিতীয় অধিবেশন পরিচালনা করেন জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের ইয়ূথ এম্বাসেডর মাইকেল টুডু। তাঁর সহভাগিতার বিষয়বস্তু ছিল,”মানবপাচার,মানবপাচারের চিত্র, এর পরিণতি এবং মানবপাচার প্রতিরোধে যুব সমাজের ভূমিকা।” দুপুরের আহারের পর কিভাবে মানবপাচার হয় এবং ভুক্তভোগীকে কীভাবে উদ্ধার করা হয় তার উপর একটি সিনেমা দেখানো হয়।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শ্রেয়া পিউরিফিকেশন অনুভুতি ব্যক্ত করে বলে, আমি এখানে এসে তালিথা কুম এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে অনেক সচেতন হয়েছি। আর মনে মনে চিন্তা করছি যে, কীভাবে আরো বেশি মানুষকে সচেতন করা যায়। নিজে প্রলোভনে পড়ব না এবং আমার ভাইবোনেরা যেন প্রলোভনে না পড়ে সেদিকে যথেষ্ট নজর দিব ও সচেতন করব।




