তুমি থেকো আনন্দলোকের বাস কক্ষে
(ফাদার বার্নার্ড রোজারিওর মহাপ্রয়াণ স্মরণে)
সম ইচ্ছা, সম উদ্দেশ্য নিয়ে
হেঁটেছি আমরা সুদীর্ঘ সাতচল্লিশ বছর ধরে,
শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে দূরন্ত যুব বয়সে
আমাদের যাজকত্ব সংস্কার গ্রহণ
ত্রিশে ডিসেম্বর উন্নিশত ছিয়ানব্বই খ্রিস্টাব্দে।
বরেন্দ্র সমতল, শহর, নগরের
পথ প্রান্তে জন-সমাবেশে তিরিশ বছরের
পালকীয় সেবা দায়িত্বের শেষ প্রান্তে এসে
তুমি সঙ্গী হলে ঘাতক ক্যান্সারের সাথে।
জীবন যুদ্ধের অবসানে
তোমার নিথর দেহ আমাদের সম্মুখে
বলা না বলা, মান অভিমান সাঙ্গ করে
তুমি এখন নিশ্চিন্তে বিশ্রামে সাড়ে তিন হাত মাটির নিবাসে।
বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খা
আর সাধ স্বপ্ন নিয়ে
প্রার্থনা করেছি শত সহস্রবার
স্রষ্টার ইচ্ছা পূর্ণতা পায় যেন তোমার জীবনে।
চিরনিদ্রায় নিদ্রিত তুমি এবার
ত্রিশ বছরের সেবা-দায়িত্বের ক্লান্তি অবসানে
স্রষ্টার নিবিড় ভালবাসার স্পর্শে
তুমি থেকো ‘আনন্দলোকের বাস কক্ষে’।
তোমাকে শেষ শ্রদ্ধা ভক্তি নমস্কার
আমাদের প্রার্থনাপূর্ণ ইচ্ছাতে
মাটির ঘরে চির শান্তিতে বিশ্রাম তোমার
স্রষ্টার পাদপদ্মে এই প্রার্থনা সবার।
নিবিড় শান্তিতে ঘুমাও হে যাজক
যাজক হবার শুভ চিন্তা নিয়ে
আমরা হেঁটেছি হাজার কদম পথ পেরিয়ে
শিক্ষা-অধ্যয়ন, গঠন গৃহের ধ্যান-সাধন পর্বে
একাত্ম থেকেছি সর্বক্ষণে, সখ্যতার বন্ধনে।
পার্থিব জীবনের বন্ধুত্ব ও পরিচয়
সাতচল্লিশ বছরের সময় রেখাতে
কত শত কর্ম, ধ্যান, চলন বলনের
অভিজ্ঞতার সাক্ষ্যদানকারী আমরা
জীবনের সোনালী সময়ের পথিক বেশে।
বরেন্দ্র সমতলের ধূলি ধূসর
খ্রিস্ট জনপথের পালকীয় সেবাকাজ,
সংস্কারীয় সেবাদায়িত্ব, ধর্মশিক্ষা
খ্রিস্টিয় জীবন গঠনের সার্বিক সহযোগীতাসহ
বহুবিধ আত্মিক কল্যাণের উদার উন্মুক্ত সেবাময় জীবন।
অজানা অনুভূতির অতল প্রদেশে
বাসা বেঁধেছে দূরারোগ্য জীবন ঘাতক ক্যান্সারে
শত প্রচেষ্টা ও চিকিৎসার শেষ প্রান্তে
নিজেকে সঁপে দেওয়া জীবন স্রষ্টার সমীপে
জীবন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ শেষে চির সত্য ‘মৃত্যু’ আলিঙ্গনে।
জীবন যাত্রার সুখ-দুঃখ, কষ্ট-বেদনার
সমসাথী হয়েছি, শত যোজন পথ পাড়ি দিয়েছি
একসাথে একই লক্ষ পথ ধরে,
শারীরিক যন্ত্রণা ও কষ্টের শেষ বিন্দুতে লেখা
মৃত্যু নামক শেষ ঠিকানা।
বন্ধু তুমি নিবিড় শান্তিতে ঘুমাও এবার
প্রার্থনার অর্ঘ্যডালি নিয়ে জেগে আছি আমরা
তোমার স্মৃতি আর বিয়োগ বেদনায়
স্রষ্টার সান্নিধ্যে ধন্য হোক জীবন তোমার।





