বন্ধু আসলাম
(প্রয়াত ফাদার বার্ণার্ড রোজারিও’র প্রতি স্মৃতি অর্পণ)
সময়-অসময়ে
হঠাৎ তোমার আগমন
আমার আঙ্গিনায়, অফিস কক্ষে,
খাবার ঘরে, এলেই বলতে
বন্ধু আসলাম, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
মান-অভিমানের বাঁধন ভেঙ্গে
বলতাম; না এলেই পারতেন
সেবন করেন, বিশ্রাম নেন
সিন-সিনারী দেখেন, তারপর যাবেন
সব কিছু শেষে; যাই একটু বাড়িতে যেতে হবে।
বাড়ি, স্বজন-প্রিয়জন, ভাই-বোন
ভাইস্তা-ভাইস্তি নিয়ে কলরবের আনন্দমেলা
লুকিয়ে থাকতো ভালবাসা-স্নেহের কোমল পরশ
অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে ছিলে-সবাই একতার বন্ধনে।
খাদ্য-খানার ধরণ-ভঙ্গিমায়
বিরক্ত হতাম আমরা; খুব দ্রুত কিছুটা অগোছালোভাবে
সেবন করতে; ভাল আয়োজন হলে নিতে বার বার
অথচ ঘাতক ক্যান্সার তোমাকে খেতে দেয়নি দীর্ঘ তিনমাস।
অসুস্থকালে ‘কমলা’ ছিল সবচেয়ে প্রিয় ‘অমৃত’
না খেয়ে বেঁচে থাকার অসহনীয় কষ্ট-যন্ত্রণায়
নির্বাক দৃষ্টিতে দেখেছি তোমায়, বুকভরা কষ্ট নিয়ে
শত শত শুভাকাঙ্খী প্রার্থনায় সহযাত্রী হয়েছি তোমার।
‘ভোর রাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়’
কই, ভোর রাতের পর তো তোমায় দেখিনা আর
শত-সহস্র স্মৃতির মিনার গড়েছ তুমি
আমাদের জীবনে; তুমি চলে গেছো মাটির ঘরে
চিরতরে; শুনবো না আর ডাক ‘বন্ধু আসলাম’
আমরাও আসবো তোমার সাথী হতে
পরমেশ্বরের শেষ ইচ্ছাতে;
প্রতীক্ষার প্রহরে আমরা জেগে আছি সকলে।





