বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা
বাংলাদেশ কাথলিক বিশপস্ কনফারেন্স (সিবিসিবি) এর উদ্যোগে ধর্মপ্রদেশীয় সিনডাল টিমের অংশগ্রহণে সিনড বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিনডাল পথচলা, পারস্পরিক শ্রবণ, অংশগ্রহণ ও মিশনারি চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশ থেকে আগত সিনোডাল টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। তারা সিনডের মূল বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেন। কর্মশালায় বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খ্রিস্টমণ্ডলীর মিশনকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ধর্মপ্রদেশে সিনডাল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। একইসঙ্গে স্থানীয় খ্রিস্টবিশ্বাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সিনডের চেতনাকে পরিবার, প্যারিশ ও বিভিন্ন খ্রিস্টিয় সংগঠনের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময়, নতুন ধারণা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্যাথলিক মণ্ডলীতে সিনডাল পথচলা আরও সুদৃঢ় ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিশপ বিজয় ক্রুজ সিনডাল বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সিনড মানে একসঙ্গে পথ চলা। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান বা সভা নয়; বরং মণ্ডলীর প্রত্যেক সদস্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, পরস্পরের সঙ্গে সংলাপ করা এবং একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান সময়ে মণ্ডলীর মিশনকে আরও কার্যকর করতে হলে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ফাদার, সিস্টার, ব্রাদার ও সাধারণ বিশ্বাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহভাগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে যুবসমাজ, পরিবার ও প্রান্তিক মানুষের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে তাদের মণ্ডলীর জীবনে আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
আর্চবিশপ বিজয় ক্রুজ আরও বলেন, আমরা যেন শুধু কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকি; বরং একে অপরকে শুনি, একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখি এবং পবিত্র আত্মার পরিচালনায় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে এগিয়ে যাই। তিনি ধর্মপ্রদেশীয় সিনডাল টিমের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সিনডের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং স্থানীয় মণ্ডলীতে শ্রবণ, সংলাপ, অংশগ্রহণ ও সহভাগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ফাদার সৃজন, এসজে সিনোডাল অবধারণ বিষয়ে শিক্ষাপ্রদান করেন। তিনি বলেন, সিনডাল মণ্ডলী গড়ে তোলার জন্য একসঙ্গে পথচলা, পারস্পরিক শ্রবণ, অংশগ্রহণ ও সহভাগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিনডালিটি শুধু একটি কর্মসূচি বা সভার বিষয় নয়; বরং এটি মণ্ডলীর জীবন ও কার্যক্রম পরিচালনার একটি পদ্ধতি। একজন আরেকজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, মতামতকে মূল্য দেওয়া এবং একসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে মণ্ডলীতে ঐক্য ও অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি ধর্মপল্লী পর্যায়ে সিনডাল চেতনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিয়মিত আলোচনা, প্রার্থনা, শ্রবণসভা ও পরামর্শের মাধ্যমে ধর্মপল্লীর মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো যেতে পারে। এতে মণ্ডলীর বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ আরও গভীর হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সিনোডাল পথচলার বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিনোড বাস্তবায়নের বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।




