সংবাদদাতা: ফাদার স্বপন মার্টিন পিউরীফিকেশন
ধর্মপ্রদেশীয় যাজকীয় ও ব্রতধারী/ব্রতধারিণীদের জন্য কমিশনের উদ্যোগে খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিস্টারদের সেমিনার। ১৪ থেকে ১৬ মে অনুষ্ঠিত সেমিনারের মূলসুর ছিলো ‘ব্রতীয় জীবনে আশার তীর্থযাত্রী হিসাবে সেবাকাজ’। এতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে সেবাদানকারী ৪২জন সিস্টার অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র আরাধনার মাধ্যমে সেমিনার শুরু হয়। রাতের আহারের পর অতিথিদের আসন গ্রহণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, উদ্বোধনী নৃত্যসহ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা, কমিশনের পক্ষে আহ্বায়ক ফাদার মাইকেল কোড়াইয়া, ফাদার উইলিয়াম মুরমু এবং সিস্টার এডেলিকা, এমসির স্বাগত বক্তব্য, খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রের পরিচালক ফাদার সাগর কোড়াইয়ার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং পরিচিতিপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সকালের পবিত্র খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য করেন ধর্মপ্রদেশের জুডিশিয়াল ভিকার ফাদার উইলিয়াম মুরমু। উপদেশে তিনি আশার তীর্থযাত্রী হিসেবে সেবাকাজের কয়েকটি দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে সেবাকাজ করা, ক্ষমা আদান-প্রদানের সংস্কৃতি চর্চা, সহভাগিতা-সহযোগিতা-সহমর্মিতা, লোভের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা, সমালোচনা পরিহার করে পরস্পর পরষ্পরকে সমর্থন করতে হবে ও গ্রহণীয় মনোভাব রাখতে হবে।
মূলভাবের উপর সহভাগিতা করেন সিস্টার স্মৃতি রিবেরু, এসসি। তার উপস্থাপনায় কয়েকটি দিক উঠে আসে। তিনি বলেন, ব্রতীয় জীবনে বা খ্রিস্টিয় জীবনে আশার তীর্থযাত্রী হিসেবে সেবাদান হল ঈশ্বরের প্রেম, ক্ষমা এবং শান্তির বার্তা ঈশ্বরের কাছে পৌঁচ্ছে দেওয়া। এটি কেবল ভৌগলিক কোনো তীর্থস্থানে যাওয়া নয় বরং আধ্যাত্মিক যাত্রাপথে নিজেকে এবং অন্যদের সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে যুক্ত থাকা। উপস্থাপনার আলোকে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে দুটি প্রশ্নের আলোকে দলীয় সহভাগিতা এবং আলোচনার পর লিখিতকারে দলীয় প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
শেষদিনে সমাপনী খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য করেন ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ডিডি। তিনি উপদেশে বলেন, ব্রতীয় জীবনে আশার তীর্থযাত্রী হিসেবে যিশুর ইচ্ছা প্রাধান্য দেয়াটা প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে, নিজেদের ইচ্ছাকে অধিক গুরুত্ব না দিয়ে মা মারীয়ার মত প্রতিদিনকার জীবনে ঈশ্বরের কাজের জন্য সকল অলসতা-স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে এবং অন্যের জীবনে আনন্দ বয়ে আনার জন্য সবসময় ত্যাগী মনোভাব রাখতে হবে।




