বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা

সিনোডীয় মণ্ডলীর চেতনা বিকাশ, সম্মিলিত অবধারণের অনুশীলন এবং মণ্ডলীর বিভিন্ন সেবাকাজে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে ‘সিনোডীয় পদ্ধতিতে অবধারণ ও মণ্ডলীর কাজে অংশগ্রহণ’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ থেকে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সিনোডীয় মণ্ডলীর মূল চেতনা, পারস্পরিক শ্রবণ, সংলাপ, প্রার্থনা, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মণ্ডলীর সেবাকাজে সকলের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মশালায় বিশপ জের্ভাস রোজারিও, কর্মশালার আহ্বায়ক ফাদার সাগর কোড়াইয়া, ফাদার উইলিয়াম মুরমু, কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, বিভিন্ন ধর্মপল্লীর পালকীয় পরিষদের সভাপতি, সহসভাপতি, সেক্রেটারি ও মহিলা প্রতিনিধি সর্বমোট ৭৩ জন অংশগ্রহণ করেন।

বিশপ জের্ভাস রোজারিও শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, সিনোডীয় মণ্ডলী গঠন শুধু একটি সভা বা কর্মশালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মণ্ডলীর দৈনন্দিন জীবন ও সেবাকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই প্রত্যেক খ্রিস্টবিশ্বাসীকে মণ্ডলীর জীবনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং নিজের প্রতিভা, সময় ও সামর্থ্য মণ্ডলীর কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

কর্মশালায় ফাদার প্রেমু রোজারিও ‘ধর্মপল্লীর পালকীয় পরিষদের বর্তমান অবস্থা ও সমস্যা’ সমন্ধে আলোচনা করেন। তিনি মণ্ডলীর ‘ক্যানন ল’ এর আলোকে ধর্মপল্লীতে পালকীয় পরিষদের দায়িত্ব-কর্তব্য বিষয়ে বলেন, পালকীয় পরিষদ ধর্মপল্লীর যাজকের ভুল ধরার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান নয়; বরং যাজককে ধর্মপল্লী পরিচালনার কাজে পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য গঠন করা হয়। রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ধর্মপল্লীগুলোতে পালকীয় পরিষদ বেশ প্রশংসার সাথে ধর্মপল্লী পরিচালনায় যাজককে সহায়তা করছে।

কর্মশালায় সম্মিলিত অবধারণের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ফাদার উইলিয়াম মুরমু ‘ধর্মপল্লীর পালকীয় পরিষদের সিনোডীয় পদ্ধতি ও অবধারণ প্রক্রিয়া’ বিষয়ে আলোচনায় অবধারণের জন্য প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত, সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ, প্রত্যেকের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিভিন্ন মতামত ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা এবং পবিত্র আত্মার আলোকে একটি যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করার বিষয় তুলে ধরেন।

ফাদার সাগর কোড়াইয়া ‘ধর্মপল্লীতে পরবর্তী অঙ্গীকার ও করণীয়’ বিষয়ের আলোকে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ ধর্মপল্লীতে সিনোডীয় চেতনা বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত পরামর্শসভা, প্রার্থনাপূর্ণ সংলাপ, পারস্পরিক শ্রবণ এবং যৌথ কর্মপরিকল্পনার ব্যবস্থা করতে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে প্রান্তিক, অবহেলিত ও যাঁদের কণ্ঠস্বর সাধারণত শোনা যায় না, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

 

Please follow and like us: