সংবাদদাতা: রাবেল আসলাম (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের সারগোদার ইউনিভার্সিটি রোডে অবস্থিত সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার কাথলিক ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ষাটতম বার্ষিক মারীয়ান উৎসব। সারগোদা এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তগণ এই ঐতিহাসিক ৬০তম বার্ষিক মারীয়ান উৎসবে সমবেত হন।
আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিস্বরূপ ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ধর্মপল্লীতে বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। শোভাযাত্রা এবং পবিত্র জপমালা প্রার্থনা রাজপথগুলোকে প্রশংসাগীতিতে মুখরিত করে তুলেছিল। স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের প্রাণবন্ত প্রতিভা প্রদর্শন করে, যা সম্প্রীতি, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের মূল্যবোধকে তুলে ধরে। এই মারীয়ান উৎসবে আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা সভা ও খ্রিস্টপ্রসাদীয় আরাধনার আয়োজন করা হয়।
মারীয়ান উৎসবে ২৮৩ জন তরুণ-তরুণী হস্তার্পণ সংস্কার গ্রহণ করে। খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন আর্চবিশপ ড. জোসেফ আরশাদ। খ্রিস্টযাগের উপদেশে আর্চবিশপ দূর-দূরান্ত থেকে আগত সকল বিশ্বাসীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং আশা, শান্তি ও আধ্যাত্মিক বিকাশের বার্তা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণরাই মণ্ডলীর ভবিষ্যৎ ও শক্তির প্রতীক। তিনি পিতামাতা, শিক্ষক এবং ধর্মপল্লীগুলোকে তাদের শিক্ষা, নৈতিক গঠন এবং আধ্যাত্মিক বিকাশে ব্যাপকভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
যুব ক্ষমতায়নের বিষয়ে ধর্মপ্রদেশের অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করে আর্চবিশপ জোসেফ তরুণ প্রজন্মকে সারগোদা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক দক্ষতার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে তারা মর্যাদার সাথে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি খ্রিস্টবিশ্বাসীদের মা মারীয়ার মাতৃসুলভ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং উল্লেখ করেন যে, আমাদের চিরস্থায়ী সহায়িকা হিসেবে তিনি শান্তি, সুরক্ষা ও আরোগ্যের জন্য নিরন্তর মধ্যস্থতা করেন। মা মারীয়ার বিশ্বস্ত উত্তর “দেখুন, আমি প্রভুর দাসী; আপনার বাক্য অনুসারে আমার গতি হোক” উদ্ধৃত করে আর্চবিশপ পরিবারগুলোকে সাহসের সাথে জীবনের প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে, ঐক্য গড়ে তুলতে, অপবাদের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করতে এবং ২৮৩ জন নবদীক্ষিত তরুণ-তরুণীকে আশার দূত ও খ্রিস্টের সৈনিক হিসেবে গড়ে উঠতে আহ্বান জানান।
ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার ডেভিড জন আর্চবিশপ ড. জোসেফ আরশাদের প্রতি তাঁর পালকীয় যত্ন এবং আধ্যাত্মিক নির্দেশনার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বার্ষিক মারীয়ান উৎসব একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিক উদযাপন যা পাকিস্তানের সকল প্রান্তের বিশ্বাসীদের একত্রিত করেছে।







