সংবাদদাতা: ফাদার যোহন মিন্টু রায়
“খ্রিস্টবিশ্বাসে আমরা প্রেরিত: ‘হায়রে আমি মঙ্গলসমাচার যদি প্রচার না করি (১ করিন্থীয় ৯:১৬)” মূলভাবকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের চাঁদপুকুর ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের প্রথম পালকীয় কর্মশালা। ১৭-১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের বিশপ পল গমেজ এবং রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। পালকীয় কর্মশালায় ২৭ জন ফাদার, ১৩ জন সিষ্টার ও ৮০ জন খ্রিস্টভক্তসহ সর্বমোট ১২২ জন অংশগ্রহণ করেন।
১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচীর মধ্যে ছিল পবিত্র সাক্রামেন্তের আরাধনা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিশপ মহোদয়গণসহ সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। এরপর ধর্মপ্রদেশের জন্মকাহিনী ও ধর্মপল্লীগুলোর চিত্রকথা তুলে ধরেন সামসন হাঁসদা। কর্মশালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূর্বপ্রস্ততি হিসেবে বিশপ জের্ভাস রোজারিও’র পালকীয় পত্র প্রতিটি ধর্মপল্লীতে বিভিন্ন স্তরে পাঠ, আলোচনা ও প্রশ্নের আলোকে যে উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছিল তার সারসংক্ষেপও তুলে ধরা হয়।
এরপর ‘বাণীপ্রচারে আমরা’ বিষয়ে চাঁদপুকুর ধর্মপল্লীর উপস্থাপনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে প্রথম দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও। উপদেশে তিনি বলেন, আমরা যেন সাধু পলের বাণীপ্রচারের আদর্শ অনুসরণ করে প্রত্যেকে হয়ে উঠি একেকজন বাণীপ্রচারক। দ্বিতীয় অধিবেশনে বিশপীয় পালকীয় পত্রে প্রদত্ত তিনটি প্রশ্নের প্রথম প্রশ্নের আলোকে আলোচনা করেন ফাদার ফাবিয়ান মার্ডী। দ্বিতীয় প্রশ্নের ওপর সবিতা মারাণ্ডী এবং তৃতীয় প্রশ্নের আলোকে ড. আরোক টপ্য কথা বলেন। এরপর ছিল প্রদত্ত তিনটি প্রশ্নের আলোকে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে দলীয় আলোচনা ও রিপোর্ট পেশ।
নবপ্রতিষ্ঠিত জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশে ‘বাণীপ্রচারের সম্ভবনা, বাঁধা ও উপায়সমূহ’ নিয়ে প্যানেল আলোচনা করা হয়। আলোচনার শুরুতে বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশে বাণীপ্রচারের সুবিশাল ক্ষেত্র রয়েছে এবং সম্ভবনাও অনেক উজ্জ্বল। বিশপ পল গমেজ বলেন, নতুন ধর্মপ্রদেশ হিসেবে আমাদের অনেক কিছুই নেই, আবার ঈশ্বরের অনেক দান রয়েছে যেগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা খ্রিস্টের বাণীপ্রচার করতে পারি। বিভিন্ন জনের প্রশ্ন, আলোচনা ও মতামতে উঠে আসে যে, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আদিবাসী অখ্রিস্টান ভাইবোনদের বাস এই নওগাঁ জেলায়; তাই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একসাথে বাণীপ্রচার ও নতুন ধর্মপ্রদেশ গড়ে তোলার কাজ করতে পারি। তবে আমরা যেন সিনোডাল মণ্ডলী হই, একসাথে পথ চলি। সন্ধ্যায় বিভিন্ন ভাষায় জপমালা প্রার্থনা ও রাতে ছিল বাণীপ্রচারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধর্মপল্লীর উপস্থাপনা।
১৯ সেপ্টেম্বর খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ পল গমেজ। খ্রিস্টযাগের উপদেশে তিনি বলেন, আমরা যেন প্রার্থনা, বিশ্বাস ও একতা নিয়ে একসাথে পথ চলি। দিনের প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত অংশগ্রহণকারীগণ জয়পুরহাট নতুন ধর্মপ্রদেশ হওয়ার অনুভূতি, প্রত্যাশা-স্বপ্ন ও প্রস্তাবনা ব্যক্ত করেন। স্বপ্ন ও প্রস্তাবনায় উঠে আসে যে, ধমপল্লী ও খিস্টভক্তের সংখ্যা যেন দিন দিন বাড়ে এবং আগামী ২৫ বছরে দিগুণ হয়।
এরপর নিজ নিজ ধর্মপল্লীতে খ্রিস্টবাণী প্রচার জোরদার করার লক্ষ্যে ৫টি অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নযোগ্য পালকীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মূল্যায়ন, মুক্তালোচনা, প্রেরণ বিবৃতি উপস্থাপন এবং একত্রে পালকীয় কর্মশালা পরবর্তী প্রার্থনা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের পালকীয় কর্মশালা সমাপ্ত হয়।





