সংবাদদাতা: পৌল পলাশ খালকো
খ্রিস্টিয় দাম্পত্য জীবনের প্রস্তুতি, পারস্পারিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং পরিবার গঠনে প্রার্থনার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিত্য সাহায্যকারিণী মা মারীয়ার ধর্মপল্লী, আন্ধারকোঠায় অনুষ্ঠিত হলো প্রাক্-বিবাহ প্রশিক্ষণ। ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর চারদিনব্যাপী প্রাক্-বিবাহ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রশিক্ষণে ১৮ জন যুবক-যুবতী আংশ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা লাভ করেন। এরমধ্যে ছিল মাণ্ডলীক সংস্কারসমূহ, দাম্পত্য জীবনে প্রার্থনার গুরুত্ব, নিজেকে জানা, শারীরিক গঠন ও সচেতনতা, মা-বাবা হওয়ার প্রস্তুতি, মাণ্ডলীক নিয়মে বিবাহ এবং সুখী খ্রিস্টিয় দাম্পত্য পরিবার গঠন।
মাণ্ডলীক সংস্কার বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা খ্রিস্টিয় জীবনে সংস্কারগুলোর গুরুত্ব এবং বিশেষভাবে বিবাহের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বস্ততা, ভালোবাসা ও আজীবন অঙ্গীকারের পবিত্র বন্ধন বিষয়ে শিক্ষা দেন ফাদার সনেট কস্তা। দাম্পত্য জীবনে প্রার্থনার গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পৌল পলাশ সরেন বলেন, প্রার্থনা একটি খ্রিস্টিয় পারিবারের প্রাণশক্তি। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে প্রার্থনা , পবিত্র বাইবেল পাঠ , পবিত্র খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ এবং পারিবারিক জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের ওপর আস্থা রাখলে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
নিজেকে জানা ও শারীরিক সচেতনতা বিষয়ক অধিবেশনে মঞ্জু বিশ্বাস বলেন, অংশগ্রহণকরারীরা যেন নিজেদের শারীরিক গঠন, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, আবেগ, অনুভূতি ও পারস্পারিক পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। পাশাপাশি বিবাহিত জীবনে পারস্পারিক শ্রদ্ধা, সম্মতি, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব আলোচনা করা হয়। ভবিষ্যতে মা-বাবা হওয়ার প্রস্তুতি, সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব এবং সন্তানের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে বাবা-মায়ের ভূমিকা সম্পর্কেও তাদের ধারণা দেওয়া হয়।
মাণ্ডলীক নিয়মে বিবাহ বিষয়ক আলোচনায় পাল পুরোহিত ফাদার প্রেমু রোজারিও ক্যাথলিক মণ্ডলীর বিবাহসংক্রান্ত শিক্ষা, বিবাহের প্রয়োজনীয় শর্ত, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতি, বিশ্বস্ততা এবং বিবাহের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। বিবাহের আগে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় মাণ্ডলীক নির্দেশনা অনুসরণ এবং বিবাহকে বিশ্বাসের আলোকে গ্রহণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করতে ফাদার প্রার্থীদের সামনে আহ্বান করেন।
প্রশিক্ষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল খ্রিস্টিয় সুখী দাম্পত্য পরিবার গঠন। এ আলোচনায় আব্রাহাম এক্কা ভালোবাসা, পারস্পারিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ধৈর্য, ক্ষমা, সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
চার দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে অংশগ্রহণকারী যুবক-যুবতীরা খ্রিস্টিয় বিবাহের তাৎপর্য উপলব্ধি করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনকে আরও সচেতন, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসভিত্তিকভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা লাভ করেন।




