সংবাদদাতা: আন্তন বিশ্বাস

খ্রিস্টিয় উপাসনায় সংগীতের মানোন্নয়ন, মণ্ডলীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সংগীতকে উপাসনায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী ‘খ্রিস্টয় উপাসনা-সংগীত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় উপাসনা ও প্রার্থনা কমিশনের আয়োজনে ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্র, রাজশাহীতে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

চার দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে ৯৪ জন অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় খ্রিস্টিয় উপাসনা-সংগীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ, আলোচনা, সংগীত শিক্ষা এবং ব্যবহারিক অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলা, সাঁন্তালী, ওঁরাও ও লাতিন ভাষার সংগীতের পাশাপাশি সাম-সংগীত, স্বরলিপি, বিভিন্ন ভাষাভিত্তিক সংগীত এবং সেবক সংগীতের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের আগমন ও নাম নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি বক্তব্যে বলেন, উপাসনায় সঙ্গীত হলো প্রাণ। সঙ্গীত দল ও পরিচালক সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বাণীপ্রচার করেন। সাধু আগষ্টিনের মতো বলা যায়, ‘যে একবার গান গায় সে দুইবার প্রার্থনা করে’। বিশপের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মশালার সূচনা হয়।

‘পুণ্য উপাসনায় সংগীত: মণ্ডলীর শিক্ষা ও নির্দেশনা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ফাদার উজ্জ্বল গ্রেগরি। এরপর ফাদার লিংকন কস্তা অংশগ্রহণকারীদের ‘স্বরলিপির প্রাথমিক পরিচিতি’ বিষয়ে কথা বলেন। এরপর ফাদার গৌরব জি. পাথাং-এর পরিচালনায় ‘সামসঙ্গীত শিক্ষা ও অনুশীলন’ অনুষ্ঠিত হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর দিনের প্রথম প্রশিক্ষণ পর্বে ফাদার বাবলু কোড়াইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা সংগীত শিক্ষা ও অনুশীলন’। বিকেলে ছিলো ভাষাভিত্তিক সংগীত শিক্ষা। এ পর্বে বাংলা, সাঁন্তালী ও ওঁরাও ভাষার সংগীত নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন ফাদার বাবলু কোড়াইয়া, আলফ্রেড হেম্ব্রম ও সুমীলা এক্কা। ১৯ সেপ্টেম্বর ‘সেবক সংগীত শিক্ষা ও অনুশীলন’ পরিচালনা করেন সুবাস বাড়ৈ। এছাড়াও ফাদার লিংকন কস্তার পরিচালনায় ছিলো ‘লাতিন গান শিক্ষা ও অনুশীলন’।

সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতে উপাসনায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। চার দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা খ্রিস্টিয় উপাসনায় সঙ্গীতের গুরুত্ব, সঙ্গীত পরিচালনা, স্বরলিপি, সাম-সংগীত, বাংলা ও বিভিন্ন আদিবাসী ভাষায় উপাসনা সঙ্গীত এবং লাতিন সংগীত সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

 

Please follow and like us: